জেল থেকে বাঁচলেন স্যামসাং যুবরাজ লি
স্যামসাং উত্তরাধিকারী জে ওয়াই লির গ্রেপ্তারের পরোয়ানা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। আর এই রায় সাময়িকভাবে হলেও করোনাকালীন সময়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেন দুই মাস ধরে জেল মুক্ত থাকা স্যামসুং গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান।
কেননা গত সপ্তাহেই লি’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছিলো রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী। তার বিরুদ্ধে আনা হয় জালিয়াতি এবং কারসাজি করে শেয়ার মূল্য বাড়ানোর মতো নতুন কিছু অভিযোগ।
এই অভিযোগের শুনানিতে সোমবার সিউলের আদালতে মাস্ক এবং গাঢ় রঙের স্যুট গায়ে হাজির হন লি। তখন আদালন তদন্ত চালানোর সময় লিকে ২০ দিন বন্দি রাখার আদেশ দিতে পারেন বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছিলো।
তবে শুনানি শেষে মঙ্গলবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক কোর্ট বিবৃতি দিয়ে বলেছে, আইনজীবিরা তাদের তদন্তের মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমাণে প্রমাণ পেয়েছেন, তবে তারা লিকে আটক করার বৈধতা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যুক্তি হাজির করতে পারেননি। এ বিষয়ে আরো পর্যবেক্ষণ এবং বিতর্কের অবকাশ রয়েছে।
তবে আদালতের এই রায়কে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি আইনজীবিরা। তারা মনে করছেন, বিচারক চাইলে আরও তদন্তের পরে লির গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুরোধের জন্য পুনরায় আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বা গ্রেফতার না করেও লি কে বিচারের আওতায় আনতে পারে।
অপরদিকে লি'র আইনজীবিরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা আশা করছেন, লি'র অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আলাদা একটি প্যানেলের কাছ থেকে মামলাটির পুরো পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।
এরআগে ২০১৫ সালে স্যামসাংয়ের দুইটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান একত্রিকরণের মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্যামসাং গ্রুপের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে লি’র যে পরিকল্পনা ছিলো, ওই একত্রিকরণ তাতে সহায়তা করেছে, এমন অভিযোগের মুখোমুখি হন লি।
এরপর ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পার্ক গুয়েন হাইকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রায় এক বছর বন্দি থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান স্যামসাং উত্তরাধিকারি।